
স্ক্রিন-প্রিন্টেড সেফটি গ্লাসের জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা নির্ধারণ করা খুবই কঠিন। কারণ, স্ক্রিন-প্রিন্টিং ও টেম্পারিং প্রক্রিয়াগুলো একসাথে ব্যবহার করা যায় না। ইঙ্কটিকে গ্লাসের ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট তাপ প্রয়োজন; কিন্তু যদি অতিরিক্ত তাপ দেওয়া হয় বা কোনো জায়গায় ঠান্ডা অবস্থা থাকে, তাহলে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে গ্লাসের কিনারাগুলো অস্পষ্ট হয়ে যায়; আরও খারাপ হলে, গ্লাসটি কুয়েঞ্চিং প্রক্রিয়ার আগেই ভেঙে যায়।
এসব সমস্যা এড়াতে আমরা শর্ট-ওয়েভ ইনফ্রারেড (IR) ল্যাম্প ব্যবহার করি।
উপযুক্ত তাপমাত্রা নির্ধারণ
লক্ষ্য হলো গ্লাসটিকে দ্রুত নরম অবস্থায় নিয়ে আসা—কিন্তু ইঙ্কটিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করা। শর্ট-ওয়েভ IR ল্যাম্পগুলো খুবই কার্যকর; কারণ এগুলো দ্রুত গ্লাসের ভিতরে প্রবেশ করে। আমরা এই ল্যাম্পগুলোকে উচ্চ তাপ ঘনত্বে সেট করি; যাতে গ্লাসটি ৬২০°সে থেকে ৬৫০°সে তাপমাত্রায় থাকে, আর ইঙ্কটি ঠিকমতো শুকিয়ে যায়।
যদি তাপ ধীরে ধীরে প্রয়োগ হয়, তাহলে ইঙ্কটি ছড়িয়ে যায়। ফলে আপনার সুন্দর ডিজাইনগুলো অস্পষ্ট হয়ে যায়।
ল্যাম্পগুলো সেট করার উপায়
আমরা সাধারণত উচ্চ-ওয়াটেজের কোয়ার্টজ ল্যাম্প ব্যবহার করি। কেন? কারণ এগুলো ঠান্ডা অঞ্চলগুলোকে দূর করে দেয়।
কিন্তু কনভেয়ার বেল্টের গতি নিয়েও সাবধান থাকতে হবে। যদি আপনি আরও বেশি গ্লাস প্রক্রিয়াজাত করতে চান, তাহলে আরও বেশি ওয়াটেজ প্রয়োজন। কিন্তু মনে রাখবেন, এতে আপনার ইলেকট্রিক্যাল প্যানেলগুলোর উপর অনেক চাপ পড়ে। নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার ওয়্যারিং সিস্টেমটি ল্যাম্পগুলো গরম হওয়ার সময় সেই চাপ সামলাতে পারবে। নইলে আপনাকে সারাক্ষণ ব্রেকারগুলো রিসেট করতে হবে।
ভারসাম্য বজায় রাখা
উচ্চ-তীব্রতার IR ল্যাম্পগুলো খুবই দ্রুত কাজ করে। কিন্তু এই দ্রুততার ফলে ঝুঁকিও রয়েছে। যদি গ্লাসটি ল্যাম্পের নিচে বেশি সময় থাকে, তাহলে ইঙ্কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এখানে নির্ভুলতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ল্যাম্পের উচ্চতায় মাত্র ১০ মিমির পরিবর্তনও গ্লাসের তাপমাত্রাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য PID কন্ট্রোলার ও পাইরোমিটার ব্যবহার করা উচিত। এগুলো আপনাকে রিয়েল-টাইম ফিডব্যাক দেয়; ফলে আপনাকে অনুমান করার দরকার হয় না। এভাবেই আপনি এমন গ্লাস পাবেন, যা ফ্র্যাগমেন্টেশন টেস্ট পাস করতে পারবে, আর ইঙ্কটিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।