
স্ক্রিন-প্রিন্টেড মেরিন গ্লাসের জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা নির্ধারণ করা খুবই কঠিন। যখন আপনি একই সাথে গ্লাসকে গরম করে এবং স্ক্রিন-প্রিন্ট করার চেষ্টা করেন, তখন আপনাকে অত্যন্ত সাবধান থাকতে হয়। একদিকে, গ্লাসটিকে যথেষ্ট গরম করতে হয় যাতে এটি নরম হয়ে যায়; অন্যদিকে, ইঙ্কটি যদি খুব বেশি গরম হয়ে যায়, তাহলে এটি ফেটে যেতে পারে বা পুড়ে যেতে পারে।
এটা খুবই কঠিন একটি ভারসাম্য। এজন্যই আমরা শর্ট-ওয়েভ ইনফ্রারেড (IR) ল্যাম্প ব্যবহার করি।
আপনি চান যে তাপমাত্রাটি গ্লাসের গভীরে পৌঁছাক; শুধুমাত্র পৃষ্ঠে থেকে আপনার প্রিন্টকে নষ্ট না করে। শর্ট-ওয়েভ IR ল্যাম্পগুলো দারুণ, কারণ এগুলো দ্রুত গ্লাসের গভীরে প্রবেশ করে। যদি আপনি ধীর গতিতে কাজ করেন, তাহলে ইঙ্কটি সেখানেই থেকে যাবে এবং প্রিন্টটি নষ্ট হয়ে যাবে। কেউই এটা চায় না।
এখন, আসল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করাটাই সবচেয়ে কঠিন অংশ। আমরা গ্লাসের পুরুত্ব এবং ইঙ্কের গরম হওয়ার সীমা বিবেচনা করে উপযুক্ত ল্যাম্প নির্ধারণ করি। উচ্চ-ওয়াটেজের ল্যাম্প ব্যবহার করলে গ্লাসটি কম সময় ধরে উচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে থাকে। কিন্তু আপনি শুধুমাত্র ল্যাম্পগুলো সেট করে বসে থাকতে পারেন না; আপনাকে ল্যাম্পের দূরত্ব ও কনভেয়ারের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যদি আপনি সঠিকভাবে কাজ না করেন, তাহলে পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যাবে এবং প্রিন্টটি নষ্ট হয়ে যাবে।
কিন্তু দ্রুত তাপ প্রয়োগ করাও সমাধান নয়। এতে গ্লাসে অদ্ভুত ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। যেহেতু ইঙ্কটি গ্লাসের তাপ শোষণের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে, তাই প্রিন্ট করা অংশগুলো ও স্বচ্ছ অংশগুলো সবসময় একই হারে গরম হয় না। যদি ল্যাম্পগুলো সঠিকভাবে সাজানো না হয়, তাহলে গ্লাসে সমস্যা দেখা দেবে।
এটা সামলানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো “জোনড কন্ট্রোল”। অর্থাৎ, আপনি নির্দিষ্ট ল্যাম্পগুলোর জন্য পাওয়ার নিয়ন্ত্রণ করেন, যাতে ইঙ্কটি সঠিকভাবে তাপ শোষণ করতে পারে। তারপর আসে “কুয়েঞ্চ” প্রক্রিয়া। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আপনাকে ঠিক সময়ে গ্লাসটিকে ঠান্ডা করতে হবে, যাতে এর শক্তি বজায় থাকে।
যদি আপনি খুব দ্রুত গ্লাসটিকে ঠান্ডা করেন, তাহলে ইঙ্ক ও গ্লাস পরস্পরের বিরুদ্ধে কাজ করবে; ফলে প্রিন্টটি নষ্ট হয়ে যাবে। সঠিক সময় নির্ধারণ করলে সবকিছু ঠিক থাকবে।